Saturday, January 11, 2025

২০২৫ এর জন্য ১০০টি রেজোলিউশন

২০২৫ এর জন্য ১০০টি রেজোলিউশন

নতুন বছর মানেই নতুন সুযোগ, নতুন আশা এবং নতুন লক্ষ্য। বছরের শুরুতে কিছু রেজোলিউশন নির্ধারণ করা একটি নির্দিষ্ট সময়ে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নতি আনার একটি কার্যকর পদ্ধতি। বিশেষত নারীদের জন্য রেজোলিউশন এমন কিছু হওয়া দরকার যা তাদের ব্যক্তিগত উন্নয়ন, মানসিক শান্তি, স্বাস্থ্য, আর্থিক স্থিতিশীলতা ও সম্পর্ককে আরও মজবুত করে।
এই তালিকায় নারীদের জীবনযাত্রার বিভিন্ন দিককে কেন্দ্র করে ১০০টি রেজোলিউশন সাজানো হয়েছে। এই প্রতিটি রেজোলিউশনই সহজে মেনে চলা যাবে এবং এগুলি জীবনে ইতিবাচক প্রভাব নিয়ে আসবে।
.
ব্যক্তিগত উন্নয়ন
১. প্রতিদিন নতুন একটি শব্দ শেখা।
২. প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিট বই পড়া।
৩. ডায়েরি লেখার অভ্যাস গড়ে তোলা।
৪. একটি নতুন ভাষা শেখা।
৫. নিজের একটি সীমাবদ্ধতাকে চ্যালেঞ্জ করা।
.
স্বাস্থ্য ও ফিটনেস
৬. প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা।
৭. একটি নতুন ফিটনেস চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা।
৮. নারীর স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া।
৯. প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা।
১০. স্কিন কেয়ার রুটিন তৈরি করা।
.
আর্থিক পরিকল্পনা
১১. প্রতিদিন কিছু টাকা সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা।
১২. প্যাসিভ ইনকামের জন্য নতুন আইডিয়া বের করা।
১৩. মাসিক বাজেট তৈরি এবং মেনে চলা।
১৪. অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো।
১৫. "ইমার্জেন্সি ফান্ড" তৈরি করা।
.
সম্পর্ক এবং যোগাযোগ
১৬. বন্ধুদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা।
১৭. প্রতিদিন একটি বিষয়ে কাউকে ধন্যবাদ জানানো।
১৮. মাসে একবার বন্ধুদের সাথে আড্ডার পরিকল্পনা করা।
১৯. সম্পর্কের ক্ষেত্রে "No Toxicity" নীতিতে চলা।
২০. পারিবারিক সম্পর্ক উন্নত করার জন্য বিশেষ সময় দেওয়া।
.
পেশাগত উন্নয়ন
২১. একটি নতুন প্রফেশনাল কোর্সে যোগ দেওয়া।
২২. প্রতি সপ্তাহে নিজের কাজের ফলাফল পর্যালোচনা করা।
২৩. অফিসের কাজ আরও দক্ষতার সাথে করার চেষ্টা করা।
২৪. সহকর্মীদের সাথে আরও ভাল সম্পর্ক গড়ে তোলা।
২৫. প্রফেশনাল নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি করা।
.
মানসিক স্বাস্থ্য
২৬. প্রতিদিন ৫ মিনিট ব্রিদিং এক্সারসাইজ বা শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যায়াম করা।
২৭. বিষণ্ণতা বা মানসিক চাপ কমানোর জন্য বিশ্বস্ত কারো সাথে এ নিয়ে কথা বলা।
২৮. নিজের আবেগ বোঝা এবং প্রকাশ করার অভ্যাস তৈরি করা।
২৯. সোশ্যাল মিডিয়ার নেতিবাচক প্রভাব কমাতে এতে কম সময় দেওয়া।
৩০. পজেটিভ চিন্তা চর্চা।
.
বিনোদন ও শখ
৩১. একটি নতুন শখ তৈরি করা।
৩২. মাসে অন্তত ১টি বই পড়া।
৩৩. নতুন রেসিপি শেখা।
৩৪. নিজের ব্লগ বা ইউটিউব চ্যানেল শুরু করা।
৩৫. বছরে একটি ট্রিপের পরিকল্পনা করা।
.
পরিবেশ এবং সমাজসেবা
৩৬. প্লাস্টিক ব্যবহার কমানো।
৩৭. সামাজিক সমস্যা বিষয়ে প্রতিবেশী ও বন্ধুবান্ধবের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করা।
৩৮. বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলা।
৩৯. একটি গাছ লাগানো।
৪০. পরিবেশবান্ধব পণ্য ব্যবহার করা।
.
জ্ঞানার্জন
৪১. প্রতিদিন একটি নতুন তথ্য জানার চেষ্টা করা।
৪২. TED Talks বা এধরনের অনুষ্ঠান দেখা।
৪৩. মাসে একটি ডকুমেন্টারি দেখা।
৪৪. বিভিন্ন সংস্কৃতি সম্পর্কে জানা।
৪৫. একটি নতুন বিষয়ে বিশদ ভাবে জানা।
.
নিজেকে ভালোবাসা (Self-Love)
৪৬. নিজের পছন্দমত একদিন স্পা নিতে যাওয়া।
৪৭. বছরে নিজেকে একটি বড় উপহার দেওয়া।
৪৮. নিজের পছন্দের পোশাক কেনা।
৪৯. ছোট ছোট আনন্দ উদযাপন করা।
৫০. নেতিবাচক মানুষ থেকে দূরে থাকা।
.
পরিবার এবং জীবনযাপন
৫১. পরিবারের সাথে প্রতি সপ্তাহে এক বেলা খাবার খাওয়ার পরিকল্পনা করা।
৫২. পরিবারের সদস্যদের ছোট সারপ্রাইজ দেওয়া।
৫৩. সন্তানদের পড়াশোনায় আরও বেশি সময় দেওয়া।
৫৪. জীবনসঙ্গীর সাথে গভীর আলোচনা করার অভ্যাস তৈরি করা।
৫৫. পরিবারের জন্য একটি ছোট ভ্রমণের পরিকল্পনা করা।
.
সৃজনশীলতা
৫৬. প্রতিদিন কিছু আঁকাআঁকি বা পেইন্টিং করার চেষ্টা করা।
৫৭. হাতের কাজ শেখা, যেমন কুশনের নকশা বা এমব্রয়ডারি।
৫৮. একটি কবিতা বা ছোটগল্প লেখা।
৫৯. নিজের সৃজনশীল কাজগুলি শেয়ার করার জন্য একটি সোশ্যাল মিডিয়া পেইজ তৈরি করা।
৬০. মাসে একটি নতুন DIY প্রজেক্ট ট্রাই করা।
.
পরিকল্পনা এবং সংগঠন
৬১. প্রতিদিন একটি To-Do লিস্ট তৈরি করা।
৬২. মাসিক বা সাপ্তাহিক পরিকল্পনা করার অভ্যাস তৈরি করা।
৬৩. ঘর সাজানোর জন্য নতুন আইডিয়া বের করা।
৬৪. অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দান বা রিসাইক্লিং করা।
৬৫. বাড়ির কাজগুলি সুন্দরভাবে ভাগ করে নেওয়া।
.
সামাজিক সংযোগ
৬৬. নতুন বন্ধু তৈরি করা এবং তাদের সাথে আড্ডা দেওয়ার পরিকল্পনা করা।
৬৭. প্রতিবেশীদের সাথে ভাল সম্পর্ক গড়ে তোলা।
৬৮. মেয়েদের জন্য সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো ইভেন্ট আয়োজন করা।
৬৯. অনলাইনে নতুন কমিউনিটিতে যোগ দেওয়া (যেমন বইপ্রেমীদের ক্লাব)।
৭০. স্বেচ্ছাসেবী কাজের মাধ্যমে সমাজে অবদান রাখা।
.
নতুন অভিজ্ঞতা
৭১. বছরে অন্তত একটি নতুন জায়গায় ভ্রমণ করা।
৭২. একদিন সম্পূর্ণ অফলাইনে থেকে প্রকৃতির সাথে সময় কাটানো।
৭৩. নতুন কোনো অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস ট্রাই করা।
৭৪. একটি নতুন রেস্তোরাঁয় খেতে যাওয়া।
৭৫. নতুন কোনো সাংস্কৃতিক ইভেন্টে অংশগ্রহণ করা।
.
ক্যারিয়ার উন্নয়ন
৭৬. নিজের পছন্দের বিষয়ে অনলাইন কোর্স করা।
৭৭. কাজের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য নতুন সফটওয়্যার শেখা।
৭৮. প্রফেশনাল প্রোফাইল আপডেট করা (যেমন LinkedIn)।
৭৯. একটি ক্যারিয়ার গাইডেন্স সেশনে অংশ নেওয়া।
৮০. নিজের কাজে একটি ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করা এবং তা অর্জনের চেষ্টা।
.
স্বনির্ভরতা
৮১. নিজেই রান্না শেখা এবং একটি মাস্টার ডিশ তৈরি করা।
৮২. একটি সঞ্চয় পরিকল্পনা তৈরি করা।
৮৩. নিজেই নিজের ছোটখাটো প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করা।
৮৪. নিজের জন্য একদিন সম্পূর্ণ স্বাবলম্বী থাকার চ্যালেঞ্জ নেওয়া।
৮৫. নিজের টাকার ব্যবস্থাপনা নিজে করার অভ্যাস তৈরি করা।
.
সৌন্দর্য এবং ফ্যাশন
৮৬. নতুন একটি হেয়ারস্টাইল ট্রাই করা।
৮৭. পোশাকের কালেকশন আপডেট করা।
৮৮. নতুন একটি স্কিনকেয়ার প্রডাক্ট ব্যবহার করা।
৮৯. প্রতিদিন নিজেকে আয়নায় দেখে প্রশংসা করা।
৯০. একটি ফ্যাশন শোতে অংশ নেওয়া বা তা দেখা।
.
আধ্যাত্মিকতা
৯১. প্রতিদিন সকালে মেডিটেশন ও প্রার্থনার অভ্যাস গড়ে তোলা।
৯২. মনোযোগী হওয়া, যেমন খাওয়ার সময় খাবারের স্বাদ উপভোগ করা, হাঁটার সময় প্রতিটি পদক্ষেপ অনুভব করা।
৯৩. জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে ভাবা এবং নিজেকে নতুনভাবে খুঁজে পাওয়া।
৯৪. অন্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অভ্যাস তৈরি করা।
৯৫. সপ্তাহে একদিন সম্পূর্ণ শান্ত পরিবেশে থাকা।
.
পরিবেশগত উদ্যোগ
৯৬. রান্নাঘরের বর্জ্য থেকে কম্পোস্ট বা জৈবসার তৈরি করা।
৯৭. বাগানের জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরি করা।
৯৮. প্রতিবেশীদের পরিবেশ সচেতন করতে ছোট উদ্যোগ নেওয়া।
৯৯. রিসাইক্লিংয়ের জন্য আলাদা ডাস্টবিন রাখা।
১০০. প্লাস্টিক ব্যবহার ৫০% কমানোর পরিকল্পনা করা।
.
নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু রেজোলিউশন বেছে নিয়ে সেগুলি সফলভাবে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করুন। মনে রাখুন, ছোট ছোট পদক্ষেপই বড় পরিবর্তনের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। নতুন বছর হোক আরও আনন্দময়, সফল এবং স্মরণীয়!

====

জীবন বদলানোর শক্তি অভ্যাসে লুকিয়ে থাকে
🔵 ১️⃣ লেখা ভালো করতে চাইলে, বেশি বেশি পড়ো।
লেখার দক্ষতা বাড়াতে পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলো। নতুন শব্দ, দৃষ্টিভঙ্গি, আর চিন্তার গভীরতা পেতে পড়া হলো সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।
💡 তুমি কীভাবে শুরু করবে?
প্রতিদিন ১০-১৫ মিনিট বই বা প্রবন্ধ পড়ো।
বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার চেষ্টা করো—উপন্যাস, জীবনী, বা তথ্যনির্ভর বই।
🟡 ২️⃣ চিন্তাধারা উন্নত করতে চাইলে, বেশি বেশি লিখো।
লিখতে লিখতেই তুমি নিজের ভেতরের কথা বুঝতে পারবে। লেখার অভ্যাস মানসিক চাপ কমায় এবং সৃজনশীলতা বাড়ায়।
💡 তোমার করণীয়:
প্রতিদিন একটি ছোট ডায়েরি লেখো।
নিজের ভাবনা, পরিকল্পনা, বা দিনের অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ করো।
🟢 ৩️⃣ গল্প বলার ক্ষমতা বাড়াতে চাইলে, বেশি বেশি শেয়ার করো।
তোমার কথা বা অনুভূতি শেয়ার করা আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং তোমার কথোপকথনের দক্ষতাও উন্নত করে।
💡 তুমি কী করতে পারো?
বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে গল্প করো।
তোমার অভিজ্ঞতা বা অনুভূতিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাগ করো।
🔴 ৪️⃣ শরীরের শক্তি ধরে রাখতে চাইলে, বিশ্রাম নাও।
শরীর ও মনের শক্তি টিকিয়ে রাখতে বিশ্রাম অপরিহার্য। ঘুম বা বিরতির অভ্যাস মানসিক এবং শারীরিক শক্তি বাড়ায়।
💡 কীভাবে বিশ্রাম করবে?
প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করো।
কাজের ফাঁকে ৫-১০ মিনিটের বিরতি নাও।
🟣 ৫️⃣ ভালোভাবে বুঝতে চাইলে, শেখাও।
তুমি যা জানো, তা অন্যদের শেখাও। এতে শুধু তাদের উপকার হবে না, তোমার জ্ঞানও গভীর হবে।
💡 কীভাবে শেখাবে?
বন্ধুদের বা সহকর্মীদের সাহায্য করো।
ছোট টিউটোরিয়াল তৈরি করে জ্ঞান শেয়ার করো।
🟠 ৬️⃣ সম্পর্ক উন্নত করতে চাইলে, দানশীল হও।
যত বেশি দানশীল হবে, সম্পর্ক তত মজবুত হবে। সময়, ভালোবাসা, বা সহযোগিতা দিয়ে অন্যদের পাশে দাঁড়াও।
💡 তুমি কীভাবে দানশীল হবে?
সময় বের করে অন্যদের সঙ্গে কথা বলো।
ছোট ছোট সাহায্য করার অভ্যাস করো।
🟡 ৭️⃣ সুখী হতে চাইলে, কৃতজ্ঞ হও।
তোমার জীবনের প্রতিটি ছোট বড় বিষয় নিয়ে কৃতজ্ঞ হও। কৃতজ্ঞতার অভ্যাসই প্রকৃত সুখ এনে দেয়।
💡 কৃতজ্ঞতার অভ্যাস গড়ে তোলার উপায়:
প্রতিদিন তিনটি জিনিস লিখে রাখো, যার জন্য তুমি কৃতজ্ঞ।
চারপাশের ছোট ছোট ইতিবাচক মুহূর্তগুলোতে মনোযোগ দাও।
🌈 তোমার অভ্যাসই তোমার ভবিষ্যতের ভিত্তি। আজই সঠিক অভ্যাস শুরু করো। ছোট ছোট পরিবর্তনই একদিন বড় সাফল্যে পরিণত হবে।
✨ তোমার ভবিষ্যৎ এখনই তৈরি করো। অভ্যাস বদলাও, জীবন বদলা

===================

২০২৫ সালে নিজেকে সম্মান করার উপায়
১. যে আপনাকে খোঁজে না, তাকে খোঁজার চেষ্টা বন্ধ করুন।
২. কারও কাছে ভিক্ষা চাওয়া বা অনুনয়-বিনয় করা বাদ দিন।
৩. প্রয়োজনের বেশি কথা বলা বন্ধ করুন।
৪. কেউ আপনাকে অসম্মান করলে, সঙ্গে সঙ্গে তাদের মোকাবেলা করবেন না।
কেউ অপমান অসম্মান করলে সঙ্গে সঙ্গে জবাব দেওয়ার নেই, সময় আসুক, সময় ঠিক উত্তর দেবে, আল্লাহ উপর ভরসা রাখুন,তিনি ঠিক উত্তর দিবেন।
৫. অন্যের খাবার খাওয়ার আগে ভাবুন, তারা কি আপনার খাবার খায়?
৬. এমন কারও বাসায় যাওয়া কমিয়ে দিন, যারা আপনার সঙ্গে তা করেন না।
৭. নিজের মধ্যে বিনিয়োগ করুন। নিজেকে সুখী রাখুন।
৮. অন্যদের সম্পর্কে গসিপ শোনা বন্ধ করুন।
৯. কথা বলার আগে চিন্তা করুন। মানুষের ৮০% মূল্যায়ন হয় আপনার মুখ থেকে কী বের হয় তার ওপর।
১০. সবসময় সেরা দেখাতে চেষ্টা করুন। পোশাকেই আপনার ব্যক্তিত্ব ফুটে ওঠে।
১১. সফল হোন। নিজের লক্ষ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকুন।
১২. নিজের সময়ের মূল্য দিন।
১৩. এমন সম্পর্কে থাকবেন না যেখানে সম্মান ও মূল্যায়ন পান না। প্রয়োজনে সরে আসুন।
১৪. অন্যের উপর খরচ করতে শিখুন। তবেই অন্যরা আপনার উপর খরচ করতে শিখবে।
১৫. মাঝে মাঝে নিজের অনুপস্থিতি অনুভব করান।
১৬. গ্রহণের চেয়ে দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
১৭. যেখানে আমন্ত্রণ পাননি, সেখানে যাবেন না। আমন্ত্রণ পেলে, সময়মতো চলে আসুন।
১৮. মানুষকে সেইভাবেই আচরণ করুন, যেমনটা আপনি তাদের কাছ থেকে আশা করেন।
১৯. তারা যদি আপনাকে টাকা না ধার করে থাকে, তবে দুবার কল করাই যথেষ্ট। আপনাকে মূল্য দিলে তারা নিজে থেকেই ফিরবে।
২০. যা করেন, তাতে দক্ষ হোন।

======

নতুন বছরে লক্ষ্যে পৌঁছানোর একটি শক্তিশালী মাধ্যম ভিশন বোর্ড📋
আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুঁ মারলে বিভিন্ন পোস্ট বা রিলসে ভিশন বোর্ডের দেখা মেলে। বলা হয়, নিউ ইয়ার রেজল্যুশনের একটি ইমেজ ভার্সন হলো ভিশন বোর্ড।
📝ভিশন বোর্ড কী
ভিশন বোর্ড যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গায় তৈরি করা যায়। বছরের শেষে বা নতুন বছরের শুরুতে ভিশন বোর্ড তৈরির চল বেশি। কারণ, এ সময়ে নতুন বছরের পরিকল্পনা ও লক্ষ্য স্থিরের জন্য ভিশন বোর্ড চমৎকার মাধ্যম হতে পারে। ভিশন বোর্ড হলো ছোট কিছু ছবি একত্র করে কোলাজ তৈরি করা; যার মাধ্যমে লক্ষ্য, স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরা যায়। শুধু ছবি নয়, চাইলে পছন্দের উদ্ধৃতিও যুক্ত করতে পারেন। এটি আপনার সচেতন ও অবচেতন মন একত্র করতে সাহায্য করে এবং লক্ষ্য অর্জনে অনুপ্রাণিত করে।
📋কীভাবে ভিশন বোর্ড কাজ করে
ভিশন বোর্ড তৈরির আগে ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করুন যে নতুন বছরে কী কী মাইলফলক স্পর্শ করতে চান। এরপর সেগুলোর ছবি ইন্টারনেট থেকে নামিয়ে নিন। চাইলে সেগুলো প্রিন্ট করে আলাদা কাগজের ওপর লাগিয়ে নিতে পারেন। ডিজিটালি তৈরির জন্য বিভিন্ন ফটো এডিটর অ্যাপ ব্যবহার করে কোলাজ তৈরি করুন।
👷কীভাবে একটি ভিশন বোর্ড তৈরি করবেন
লক্ষ্যগুলো সুনির্দিষ্ট করুন, যেমন ‘আগামী বছর আমি অনেক টাকার মালিক হব’ বলার পরিবর্তে, কত টাকা সঞ্চয় করতে চান, তা নির্ধারণ করুন। বোর্ডটি এমন জায়গায় রাখুন, যা প্রতিদিন দেখতে পান। নিয়মিত আপডেট করুন। যদি লক্ষ্য পরিবর্তিত হয়, বোর্ডটি সংশোধন করুন। পুরোনো লক্ষ্য অর্জিত হলে সেটিতে ক্রস এঁকে দিতে পারেন। এটি আপনাকে আরও অনুপ্রাণিত করবে। ভিশন বোর্ড তৈরির আগে নিজের লক্ষ্যের ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা রাখুন। নিজেকে নিচের প্রশ্নগুলো করতে পারেন—
🎯আপনি কী অর্জন করতে চান
এসব লক্ষ্য কেন গুরুত্বপূর্ণ। কীভাবে আপনি এগুলো অর্জন করতে চান। চিন্তাভাবনার মাধ্যমে নিজের লক্ষ্য স্পষ্ট করুন। ভিশন বোর্ড নানাভাবে তৈরি করা যায়। চাইলে পোস্টার বোর্ড, ফোম বোর্ড, কর্ক বোর্ড, সাদা বোর্ড, নোটবুকে ছবি প্রিন্ট করে তৈরি করুন। ডিজিটালি তৈরি করতে চাইলে ক্যানভা, পাওয়ারপয়েন্ট বা অন্যান্য ভিডিও এডিটিং অ্যাপের মাধ্যমে করতে পারেন। যেখানে ছবি পেতে পারেন—পুরোনো ম্যাগাজিন ও ক্যাটালগ, ব্যক্তিগত ছবি, পোস্টকার্ড, ডিজিটাল ইমেজ ইত্যাদি। উপাদান—ইতিবাচক উদ্ধৃতি, রঙিন স্টিকার, ক্র্যাফট আইটেম (কাপড়ের টুকরা বা শুকনা ফুল)।
📝সাজানোর টিপস
লক্ষ্য অনুযায়ী ভাগ করুন (স্বাস্থ্য, স্কিল ও ক্যারিয়ার)। রঙিন প্যালেট ব্যবহার করুন। ছবিগুলোর ওপর উঁচু-নিচু স্তর তৈরি করুন। বোর্ডের মাঝখানে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যগুলো রাখুন। বোর্ডটি এমন জায়গায় রাখুন, যা প্রতিদিন দেখতে পাবেন। উপযুক্ত স্থান—ফ্রিজ, আয়না, বিছানার পাশে ও টেবিলের ওপরে। লক্ষ্য পরিবর্তনের সঙ্গে বোর্ডটিও পরিবর্তন করুন। বোর্ডের বিষয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের জানাতে পারেন। এটি সচেতনতা বাড়াবে এবং আপনাকে আরও দায়বদ্ধ রাখবে।

ভিশন বোর্ডের বড় সুবিধা হলো, এটি আপনাকে প্রতিদিন লক্ষ্যগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়। প্রতিদিন ভিশন বোর্ড দেখার ফলে অবচেতন মনে লক্ষ্যগুলো গেঁথে যায়। এটি সুযোগ সম্পর্কে সচেতন করে এবং লক্ষ্য অর্জনের অনুপ্রেরণা বাড়ায়। গবেষণায় দেখা গেছে, লক্ষ্যকে ভিজ্যুয়ালি উপস্থাপন করলে তা অর্জনের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। ভিশন বোর্ড অনুপ্রেরণার মাধ্যম নয়, বরং এটি প্রতিদিনের কাজ বৃহৎ উদ্দেশ্যের সঙ্গে যুক্ত করে।

========
জীবন বদলানোর শক্তি অভ্যাসে লুকিয়ে থাকে
তোমার দক্ষতা বাড়াতে, চিন্তা-ভাবনা পরিষ্কার করতে আর নিজের জীবনে সত্যিকারের উন্নতি আনতে হলে অভ্যাসের দিকে মনোযোগ দাও। সঠিক অভ্যাসই তোমার জীবনকে সুন্দর ও অর্থবহ করে তুলবে।
লেখা ভালো করতে চাইলে, বেশি বেশি পড়ো।
পড়ার অভ্যাস শুধু নতুন জ্ঞানই এনে দেবে না, তোমার চিন্তাভাবনা গভীর করবে আর শব্দচয়নে দক্ষ করে তুলবে।
চিন্তাধারা উন্নত করতে চাইলে, বেশি বেশি লিখো।
লিখতে লিখতে তুমি নিজেই নিজের ভেতরের জটগুলো খুলতে পারবে। প্রতিদিন লেখা তোমার ভাবনা স্পষ্ট করবে।
গল্প বলার ক্ষমতা বাড়াতে চাইলে, বেশি বেশি শেয়ার করো।
নিজের কথা, নিজের অনুভূতি, আর অভিজ্ঞতা অন্যদের সামনে তুলে ধরো। এতে শুধু তোমার আত্মবিশ্বাস বাড়বে না, মানুষও তোমাকে নতুন দৃষ্টিতে দেখতে শিখবে।
শরীরের শক্তি ধরে রাখতে চাইলে, বিশ্রাম নাও।
শরীর ক্লান্ত হলে মনও ঠিক থাকে না। শক্তি আর কাজের গতি ধরে রাখতে বিশ্রামের বিকল্প নেই।
বুঝতে চাইলে, শেখাও।
তুমি যা জানো, তা অন্যদের শেখাও। এতে শুধু অন্যরা উপকৃত হবে না, তুমি নিজেও বিষয়টা আরও ভালোভাবে বুঝতে পারবে।
মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে চাইলে, দানশীল হও।
মানুষকে কিছু দাও—সময়, সহযোগিতা, ভালোবাসা। সম্পর্ক তখনই গভীর হয়, যখন তুমি নিজে উদার হতে শেখো।
আর যদি সুখী হতে চাও, কৃতজ্ঞ হও।
তোমার যা আছে, তার জন্য প্রতিদিন ধন্যবাদ জানাও। কৃতজ্ঞতাই সুখের আসল চাবিকাঠি।
এই পৃথিবীতে তুমি যা চাও, তা অর্জনের মূল চাবিকাঠি হলো তোমার অভ্যাস। তোমার প্রতিদিনের ছোট ছোট কাজগুলোই ভবিষ্যতে বড় পরিবর্তন আনবে। তাই অভ্যাস ঠিক করো, জীবন নিজেই বদলে যাবে।

==============

টাইম ম্যানেজমেন্ট এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জীবনে। সময়ের চেয়ে দামি আসলেই কিছু নেই। আমরা কর্মক্ষেত্রে অনেক সময় ব্যবস্থাপনার প্রশিক্ষণ নিই। আসলে দিনের কাজ কোনটা কখন করবেন, কোনটা আগে বা পরে—এসবই আসে সময় ব্যবস্থাপনার মধ্যে। যদি এই বিষয়টি সঠিক না হয়, তবে সারা দিন কাজ করেও ভালো ফল মেলে না।
আর আসলে প্রথমে জানতে হবে সময় বলতেই–বা আমরা কী বুঝি। সময় তো ঘড়ির কাঁটায় চলে। একে ক্লক টাইম বলা হয়, যার কোনো হেরফের হয় না। কিন্তু সময় আসলে আপেক্ষিক। কাজ থেকে ১০ মিনিটের বিরতি নিয়ে ইউটিউব বা ফেসবুক ব্রাউজ করতে গিয়ে নিজের অজান্তে ঘণ্টা কাবার হয়ে যায়। আবার ল্যাপটপে প্রাত্যহিক একঘেয়ে কাজ করতে করতে যেন লাঞ্চ টাইম আর আসে না। তাই সব মিলিয়ে দিনের ২৪ ঘণ্টাকে বুদ্ধি করে সাজিয়ে সঠিক সময় ব্যবস্থাপনা করতে পারলে জীবনে মিলবে সফলতা।
মাত্র তিনভাবে সময় কাটানো যায়। চিন্তা করা, কথা বলা ও কাজ করা। আমরা সারা দিন যা–ই করি না কেন, তাকে এই তিন শ্রেণির একটিতে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে। আর জীবনে সাফল্যের পথে এগিয়ে যেতে এই তিন ধরনের কাজই রাখতে হবে দিনের করণীয় কাজের তালিকায়। এবারে টাইম ম্যানেজমেন্ট বা সময় ব্যবস্থাপনার কিছু কার্যকর উপায় দেখে নেওয়া যাক।
১. সপ্তাহজুড়ে প্রতিদিন সময় রেকর্ড করা
কর্মক্ষেত্রে কথোপকথন, প্রজেক্ট আর বিভিন্ন কার্যক্রমে কতটুকু সময় লাগে, সেটা খেয়াল করে রেকর্ড করতে হবে প্রথমে সপ্তাহভর। আর তা যে শুধু কাজের হিসাব, তা নয়। যতভাবে সময় ব্যয় হয়, তার সবই আমলে আনতে হবে। এভাবে এক সপ্তাহের উপাত্ত পর্যবেক্ষণ করলেই বোঝা যাবে সময় কোথায় যাচ্ছে।
২. নিজের কাজের জন্য আলাদা সময় রাখা
আলাদা করে সময় না রাখলে কোনো কাজই করা হয় না ভালোভাবে। দিনের প্রাত্যহিক করণীয় কাজের ভিড়ে নিজের কোন বিশেষ কাজ হারিয়ে যায়। করা হয় না অথবা মানের ক্ষেত্রে আপস করা হয়।
৩. চিন্তা করার জন্য সময় বরাদ্দ
কর্মক্ষেত্রে সাফল্য পেতে হলে যত কাজ করতে হয়, যার প্রতিটি হওয়া উচিত সুচিন্তিত। এই ব্রেনস্টর্মিংয়ের জন্য আলাদ্য সময় অবশ্যই রাখতে হবে।
৪. কাজের বিঘ্ন ও বিরতিগুলোকে গোনায় ধরা
শুধু কাজ নয়, অকাজগুলোকেও গোনায় ধরতে হবে। কেউই টানা কাজ করতে পারে না। আবার আগে থেকে ঠিক করে রাখা শিডিউল অনুযায়ী কাজ করতে গিয়ে বিরতি নেওয়া বা বিভিন্ন কারণে বিঘ্ন ঘটতে পারে। এই সময়গুলোকে খেয়াল করে হিসাবের মধ্যে ধরতে হবে।
৫. দিনের প্রথম ৩০ মিনিট পরিকল্পনার জন্য রাখা
কাজ শুরু করার আগে প্রথমে আধা ঘণ্টা দিনের পরিকল্পনা করার জন্য রাখা উচিত। এতে উল্টাপাল্টা সময় ব্যয় হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। পরিকল্পনা ছাড়া দিন শুরু করলে কাজের শৃঙ্খলা থাকে না। তাই এই ৩০ মিনিটই দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়।
৬. লক্ষ্য স্থির করা
লক্ষ্যবিহীনভাবে কাজ করে কিছুই অর্জন করা যায় না। প্রতিটি কাজ, মিটিং বা ফোনালাপের আগে এর মূল লক্ষ্য বা এর থেকে কী ও কতটুকু পাওয়া যাবে, তা ঠিক করে নিতে হবে।
৭. সবাইকে জানান দিন যে আপনি ব্যস্ত
‘ডু নট ডিস্টার্ব’ সাইন সব সময় লাগানো না গেলেও কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার আগে সবাইকে জানিয়ে দিলে ভালো। এতে এ সময় কেউ অযথা বিরক্ত করবে না। যেকোনো মেসেঞ্জার বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিরক্ত না করার সিগন্যাল সেট করা যায়।
৮. সারাক্ষণ অন্যদের মনোযোগ না দেওয়া
আপনাকে সব সময় চাইলেই পাওয়া যাবে, এ ধারণা থেকে সবাইকে বের করে আনুন। নয়তো কোনো কাজই ঠিকভাবে করা হবে না ফোন বাজলেই ধরতে হবে, ই–মেইল এলেই খুলে দেখতে হবে তা নয়। মেসেঞ্জারগুলোতেও আপনার সক্রিয় উপস্থিতির বেলায় একই কথা প্রযোজ্য।

==============

আপনি কি এমন মানুষ, যিনি প্রতিদিন কিছু করার পরিকল্পনা করেন কিন্তু সেই কাজ আর করা হয় না?
- কাল সকাল ছ’টায় উঠে হাঁটতে বের হবো।
- আগামী সপ্তাহ থেকে জিম শুরু।
- একটা ব্যবসা শুরু করবো।
- কাল থেকে পড়তে বসবো। নো মোর ভুগিচুগি।
আমরা এমন সব পরিকল্পনা প্রায়ই করি। কিন্তু এগুলো কতটা বাস্তবায়ন হয়?
বেশিরভাগ সময়, একদিনও না।
মজার বিষয় হলো, এই পরিকল্পনা করার সময়েই আমরা নিজেকে বিজয়ী মনে করি। কিন্তু কাজ শুরু করতে গেলেই যেন সব হারিয়ে যায়।
এটাকে বলা হয় মেন্টাল মাস্টারবেশন।
শব্দটা একটু চমকপ্রদ, কিন্তু এর মানে খুবই সাধারণ। আপনি যখন কোনো কিছু করার প্ল্যান করেন, তখন মস্তিষ্ক একটা ভ্রম তৈরি করে। মনে হয়, কাজটা যেন হয়ে গেছে। এর পেছনে দায়ী হলো আমাদের মস্তিষ্কের ডোপামিন।
প্ল্যান করা মানে কাজের প্রাথমিক স্বাদ পেয়ে যাওয়া। আর এই স্বাদই আপনাকে বাস্তব কাজ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
কীভাবে এই ফাঁদে পড়ি?
এই ফাঁদ বোঝার জন্য আমাদের নিজের অভ্যাসগুলো বিশ্লেষণ করতে হবে। আমাদের পরিকল্পনা কেন কাজে রূপ নেয় না, তার কয়েকটা প্রধান কারণ নিচে তুলে ধরতেছি।
- পরিকল্পনার জালে জড়িয়ে যাওয়া
“ভালো পরিকল্পনা করা মানেই কাজের অর্ধেক শেষ”
এমন একটা কথা শোনা যায়। কিন্তু বাস্তবে আমরা এত বেশি পরিকল্পনায় ডুবে যাই যে, কাজটাই শুরু করি না। প্রতিটা ডিটেইল ঠিক করতে গিয়ে স্রেফ সময় নষ্ট হয়।
- কাল থেকে’ মানসিকতা:
“আগামীকাল শুরু করবো।”
আজকের কাজ কালকে তুলে রাখাটা আমাদের সহজাত প্রবৃত্তি। ভাবি, আজ শুরু না করলেও ক্ষতি নেই। কিন্তু ‘আগামীকাল’ কখনো আসে না।
- পারফেকশন খোঁজার চেষ্টা:
“সবকিছু ঠিকঠাক হলে তবেই শুরু করব।”
আমরা মনে করি, একটা নির্দিষ্ট ‘সঠিক সময়’ আসবে। কিন্তু বাস্তবে কখনোই সবকিছু একসঙ্গে ঠিকঠাক হয় না। সেই ‘সঠিক সময়ের’ অপেক্ষায় আমরা হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকি।
- গল্প শেয়ার করার আনন্দ:
“আমার নতুন প্ল্যানটা জানলে সবাই মুগ্ধ হবে।”
নিজের পরিকল্পনা অন্যদের শেয়ার করার পর যে প্রশংসা পাই, সেটাই আমাদের মস্তিষ্কে একটা ভ্রম তৈরি করে। মনে হয় কাজটা অনেকটাই শেষ। কিন্তু বাস্তবে কিছুই শুরু হয়নি।
এখন নিজেকে প্রশ্ন করুন…
আপনার আসল উদ্দেশ্য কী? কাজ করা, নাকি শুধুই পরিকল্পনা করে নিজেকে তৃপ্ত রাখা?
ব্যর্থতার ভয় কি আপনাকে পিছিয়ে দিচ্ছে? নাকি পরিকল্পনার ভুয়া সুখে আপনি সত্যিকারের কাজ ভুলে গেছেন?
পরিকল্পনা করা ভালো। কিন্তু সেই পরিকল্পনাগুলো যদি শুধুই মস্তিষ্কে আটকে থাকে, তাহলে এগুলো কেবল সময় নষ্ট করা।
ছোট করে হলেও কিছু শুরু করুন।
সফলতা বড় বড় কাজের মধ্যে নয়, বরং ছোট ছোট পদক্ষেপে লুকিয়ে থাকে।
আজই নিজের প্রথম পদক্ষেপটা নিন।
কারণ, ‘আগামীকাল’ একটা মিথ।
যে লুজার মেন্টালিটির, তার আগামীকালও সেইমভাবেই কাটবে।
নতুন আগামীকালের আশায়…

================

২০২৫ সালে নিজেকে সম্মান করার উপায়
১. যে আপনাকে খোঁজে না, তাকে খোঁজার চেষ্টা বন্ধ করুন।
২. কারও কাছে ভিক্ষা চাওয়া বা অনুনয়-বিনয় করা বাদ দিন।
৩. প্রয়োজনের বেশি কথা বলা বন্ধ করুন।
৪. কেউ আপনাকে অসম্মান করলে, সঙ্গে সঙ্গে তাদের মোকাবেলা করবেন না।
কেউ অপমান অসম্মান করলে সঙ্গে সঙ্গে জবাব দেওয়ার নেই, সময় আসুক, সময় ঠিক উত্তর দেবে, আল্লাহ উপর ভরসা রাখুন,তিনি ঠিক উত্তর দিবেন।
৫. অন্যের খাবার খাওয়ার আগে ভাবুন, তারা কি আপনার খাবার খায়?
৬. এমন কারও বাসায় যাওয়া কমিয়ে দিন, যারা আপনার সঙ্গে তা করেন না।
৭. নিজের মধ্যে বিনিয়োগ করুন। নিজেকে সুখী রাখুন।
৮. অন্যদের সম্পর্কে গসিপ শোনা বন্ধ করুন।
৯. কথা বলার আগে চিন্তা করুন। মানুষের ৮০% মূল্যায়ন হয় আপনার মুখ থেকে কী বের হয় তার ওপর।
১০. সবসময় সেরা দেখাতে চেষ্টা করুন। পোশাকেই আপনার ব্যক্তিত্ব ফুটে ওঠে।
১১. সফল হোন। নিজের লক্ষ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকুন।
১২. নিজের সময়ের মূল্য দিন।
১৩. এমন সম্পর্কে থাকবেন না যেখানে সম্মান ও মূল্যায়ন পান না। প্রয়োজনে সরে আসুন।
১৪. অন্যের উপর খরচ করতে শিখুন। তবেই অন্যরা আপনার উপর খরচ করতে শিখবে।
১৫. মাঝে মাঝে নিজের অনুপস্থিতি অনুভব করান।
১৬. গ্রহণের চেয়ে দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
১৭. যেখানে আমন্ত্রণ পাননি, সেখানে যাবেন না। আমন্ত্রণ পেলে, সময়মতো চলে আসুন।
১৮. মানুষকে সেইভাবেই আচরণ করুন, যেমনটা আপনি তাদের কাছ থেকে আশা করেন।
১৯. তারা যদি আপনাকে টাকা না ধার করে থাকে, তবে দুবার কল করাই যথেষ্ট। আপনাকে মূল্য দিলে তারা নিজে থেকেই ফিরবে।
২০. যা করেন, তাতে দক্ষ হোন।

=======

প্রতিদিন সকালে আমরা বিছানা থেকে উঠে যে প্রথম জিনিসটা করি, সেটা হল মোবাইল চেক করা। কিন্তু আজ আমি একটা অন্যরকম সকালের কথা বলব।
আমি সকালে উঠে একটু ঝিম ধরে বসে থাকি। তারপরে তাকাই বুকসেলফে। রে ডালিও'র বইটা রেখেছি সামনে। তবে আজকে সেটাকে পাশ কাটালাম। ল্যাপটপে একটা পৃষ্ঠা দেখছিলাম কাল রাতে। তাতে লেখা ছিল - প্রতি সকালে নিজেকে তিনটে কথা মনে করিয়ে দাও। সেই তিনটে কথা পড়ে আমার জীবন দেখার দৃষ্টিভঙ্গি অনেকটাই বদলে গেল।
প্রথম কথা: জীবন ছোট, যেকোনো মুহূর্তে শেষ হতে পারে।
এটা পড়ে প্রথমে একটু ভয় পেলাম। তারপর ভাবলাম - আচ্ছা, আজ যদি আমার শেষ দিন হয়, তাহলে কী করব? হয়তো মার সাথে একটু বেশি সময় কাটাব। বন্ধুকে ফোন করে বলব যে ওর সাথে ঝগড়াটা আমার ভুল ছিল। অফিসের কাজটা আজই শেষ করব, কাল-এর জন্য ফেলে রাখব না।
দ্বিতীয় কথা: আজ যা ঘটবে, তার রিঅ্যাকশন আপনার হাতে।
মানে? হ্যাঁ, বস হয়তো চিল্লাবেন, ট্রাফিক জ্যামে আটকে যাব, প্রজেক্ট ডেডলাইন মিস হবে। কিন্তু এগুলোতে রেগে যাব, না শান্ত থেকে সমাধান খুঁজব - সেটা আমার চয়েস।
তৃতীয় কথা: মানুষ চায় সে গুরুত্বপূর্ণ হোক, প্রয়োজনীয় হোক।
এটা পড়ে মনে পড়ল নতুন টীম মেম্বারের কথা। ও হয়তো আজও আমার কাছে হেল্প চাইতে ভয় পাচ্ছে। আজ ওকে ডেকে কফি খাওয়াব।
সকালের এই তিন কথা আমার দিনটাকে বদলে দিল। অফিসে যেতে যেতে দেখলাম রাস্তার পাশে একজন বৃদ্ধ ভিক্ষুক। রোজ দেখি, আজ প্রথম থামলাম। শুধু টাকা দিলাম না, দুটো কথা বললাম।
অফিসে বস চিল্লালেন। আমি হাসলাম। বললাম, "স্যর, আপনি ঠিকই বলছেন। আমি ভুল করেছি। ঠিক করে দিচ্ছি।" উনি অবাক।
সন্ধ্যায় বন্ধুকে ফোন করলাম। বললাম, "দোস্ত, আমি বেশি রিঅ্যাকশন দিয়েছি, মাফ করে দিস।"
আজকাল প্রতি সকালে আমি এই তিন কথা নিয়ে দিন শুরু করি। কিন্তু জানেন, সবচেয়ে মজার কী? এখন আমি নিজেও তিনটে নতুন কথা লিখতে শুরু করেছি। কারণ প্রতিদিন নতুন করে বাঁচতে শিখছি।
===========



No comments:

Post a Comment

সাপ্লিমেন্ট

  আমি আমেরিকা থাকি তাই আমেরিকারটা জানি। অন ্য দেশের গুলো জানিনা। Doctors Best (Overall Best) Triquetra (Any B Vitamins and B Complex) Now ( ...