মহিলাদের ওভুলেশন ঠিক রাখতে ৬টি কার্যকর উপায়:
প্রতিদিন ৭-৯ ঘণ্টা গভীর ঘুম নিন।
রাতে স্ক্রিন টাইম কমিয়ে দিন ও নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস করুন।
রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট (সাদা চাল, সাদা রুটি, ময়দা, চিনি) এড়িয়ে চলুন।
কমপ্লেক্স কার্বস (ওটস, শাকসবজি, ডাল) ও প্রোটিন (ডিম, মাছ, মাংস) খান।
প্রতিবার খাওয়ার পর ১৫ মিনিট ঘরের মধ্যে পায়চারী করুন।
ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, কোএনজাইম Q10 ওভুলেশন শক্তিশালী করে।
পাশাপাশি বাদাম, বীজ, গ্রিন টি, সবুজ শাকসবজি খান।
পরিবেশ দূষণ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে ফ্রেশ ও অর্গানিক খাবার বেছে নিন।
খুব কম ক্যালোরি খেলে ওভুলেশন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
প্রতিদিন পর্যাপ্ত ফ্যাট (অলিভ অয়েল, নারকেল তেল, ঘি, বাদাম) নিন।
আয়রন ও জিঙ্কযুক্ত খাবার (লাল মাংস, বিট, কুমড়োর বীজ) মহিলাদের হরমোনের জন্য জরুরি।
কর্টিসল হরমোন বেশি হলে ওভ্যালুয়েশন ব্যাহত হয়।
ইয়োগা, ব্যায়াম, ও হাঁটা আপনার মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করবে।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন, বক্স ব্রিথিং প্রাক্টিস করতে পারেন, এটি রিলাক্স করতে সাহায্য করে।
ভিটামিন ডি হরমোন ব্যালেন্স ঠিক রাখে।
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ইনফ্লামেশন কমায় ও এগ কোয়ালিটি ভালো রাখে।
ফলিক অ্যাসিড গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়ায় ও গর্ভস্থ শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করে।
ম্যাগনেসিয়াম স্ট্রেস হরমোন নিয়ন্ত্রণ করে ও পিরিয়ড নিয়মিত রাখে।
এছাড়া শারীরিক সমস্যা বা লক্ষন অনুযায়ী অনেক নিউট্রিয়েন্ট এর ওপর কাজ করতে হয়। পুষ্টি ঘাটতি রাখা যাবে না, এবং নিউট্রিশন বা থেরাপিউটিক নিউট্রিশন এখন এতো এডভান্স, অনেক কিছুর সমাধান সম্ভব এখন নিউট্রিয়েন্ট দিয়েই।
এগুলো মেনে চললে আপনার ওভুলেশন স্বাভাবিক থাকবে এবং গর্ভধারণের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে ইন শা আল্লাহ!
ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিস্ট মালিহা জান্নাত
===========গতকালের পোস্টে আমি বলেছিলাম, যারা কনসিভ করতে চান এবং কম বয়সে এগ কাউন্ট কমে যাওয়া থেকে বাচতে চান, তাদের অত্যন্ত জরুরী একটা কাজ হচ্ছে চিনি খাওয়া বন্ধ করা।
চিনি মানে শুধুই চিনি না। চিনিযুক্ত এবং চিনি জাতীয় সমস্ত খাবারই বন্ধ রাখা চাই। শুধুমাত্র যারা দিনে ২ ঘন্টা বা তার বেশি কঠোর শারীরিক পরিশ্রম করেন, তারাই দিনে সর্বোচ্চ ৫০-১০০ ক্যালরি সমপরিমান চিনি/মিষ্টি খেতে পারবেন, তবে যাদের ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, পিসিওএস আছে অথবা এগ কাউন্ট ২ এর কম অথবা বয়স ৩০ এর বেশি, তাদেরকে এটাও না খেতে অনুরোধ করবো আমি।
চিনির বাইরে, সুক্রালোজ বা এরকম সব সুগার সাবস্টিটিউট এড়িয়ে চলুন, কেবলমাত্র স্টেভিয়া ও জাইলিটল, এরিথ্রাইটল সুগার সাবস্টিটিউট হিসেবে আপনাদের জন্য ব্যবহার যোগ্য।
এখন, দিনে কার্ব কতটুকু খাবেন, এই প্রশ্ন তো চলেই আসে।
এক্ষেত্রে ব্যক্তিভেদে পরিমান আলাদা হবে।
আপনার কার্ব খাওয়ার লিমিট কতটুকু হবে তা জানতে হলে বুঝতে হবে আপনার আদৌ ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বা হাইপারইনসুলিনেমিয়া আছে কিনা।
যদি আপনার পেটের মধ্যভাগের মাপ আপনার উচ্চতার ৪৫% এর বেশি হয়, সম্ভাবনা খুবই বেশি যে আপনার ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স আছে।
যার পেট যত সমান, তার কার্বোহাইড্রেট টলারেন্স তত বেশি, এইটা রুল অফ থাম্ব। সবার ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য না হলেও বেশিরভাগের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
তবে যাদের বেশি কার্ব খাওয়া ছাড়া উপায় থাকে না, তাদের জন্য পরামর্শ হচ্ছে সব সাদা এড়িয়ে চলুন। সাদা ভাত, সাদা রুটি, সাদা আটা বা ময়দা, পাউরুটিকে বিদায় জানান।
এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো একের পর এক নিজের ওপরে নিয়ে আসুন। ভাল ফলাফল পাবেন ইনশা আল্লাহ।
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ হাইপোথাইরয়েডিজম থাকলে গমের বেশিরভাগ খাবার এড়িয়ে চলাই ভাল হবে, যদিই এব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের মাঝে মতের ভিন্নতা আছে।
===========
শুভ বসন্ত!!
প্রকৃতিতে যেভাবে বসন্ত আসে, সেভাবে আমাদের জীবনেও একটা সুনির্দিষ্ট বয়সে বসন্ত শুরু হয় শারীরবৃত্তীয় ভাবে।
আমাদের দেহের তাপমাত্রা বাড়ে, অপটিমাম থাকে গ্রোথ হরমোন, আর সমস্ত রিপ্রোডাক্টিভ হরমোন। ফলে আমরা অনুভব করি সজীবতা। জীবনের এই সময়টা হচ্ছে ২১-৩৩ বছর বয়স(পুরুষদের জন্য), ১৬-২৫ বছর বয়স(মেয়েদের জন্য)।
বসন্ত মাত্রই স্বল্পস্থায়ী।
এই স্বল্পদৈর্ঘ্য বসন্তকে কি করে লম্বা করা যায় সেই ফিকিরে মানবজাতি আছে বহু হাজার বছর ধরসি। হ্যা, শারীরবৃত্তীয় বসন্তকে লম্বা করা যায় বটে, চেষ্টা করলে চল্লিশের কোঠায়ও আপনি থাকতে পারবেন চিরসবুজ, কিন্তু তাতে সাধনার প্রয়োজন আছে।
এমনিতে, বসন্ত হচ্ছে ভালোবাসা ও প্রজননের ঋতু।
মানবজাতির প্রাচীন ইতিহাসে এই ঋতুতে বিশেষভাবে নারীদের শরীর গর্ভধারনের জন্য বেশি উর্বর থাকে বলে পৃথিবীর সমস্ত কালচারে একটা লোকজ চর্চা আছে।
এখন আমরা কিছু টিপস শেখাবো, যা এই বসন্তকালে মেনে চললে বাড়তে পারে আপনার ফার্টিলিটি। এই নিয়মগুলির কিছু কিছু শুধু বসন্তের জন্যই ভাল হবে, কিছু কিছু সবসময় অনুসরন করতে পারেন।
১)নিয়মিত ব্লু বেরি, ব্ল্যাক বেরি, এল্ডারবেরি,স্ট্রবেরি, ক্র্যানবেরি, র্যাস্পবেরি, গোজি বেরি, লাল, নীল, গোলাপী ও সবুজ আঙ্গুর, বেদানা খেতে পারেন নিয়মিত।
২)জলপাই, ডুমুর, বরই(দেশী), কদবেল, তরমুজ খেতে পারেন
৩)তেতুল, সরষে, কাচা হলুদ, কাঠবাদাম, আখরোট, কেশিউ নাট, ম্যাকাডেমিয়া, পেকান্স ও ব্রাজিল নাট খেতে পারেন
৪)রসুন, পেয়াজ খাওয়া বাড়াতে পারেন যদি গ্যাসের সমস্যা না থাকে
৫)প্রচুর ডিম, দুধ, ঘোল, দই ও বোরহানী খেতে পারেন যদি আপনার কোন মেটাবলিক ডিজিজ না থাকে
৬)মধু ও ফলের শরবত পান করতে পারেন
৭)ছোট মাছ, সামুদ্রিক মাছ, সীফুড খেতে পারেন
সুস্থ মানুষের জন্য বসন্তে আদর্শ মিল সিস্টেম হচ্ছে উত্তরের দেশগুলোয় দিনে ৪-৬ টা মিল, ৩টা বড় মিল। বাংলাদেশের শীত মৃদু, বসন্তও তাই, ফলে এখানে দিনে ২টা বড় আর ১/২টা ছোট মিলই যথেষ্ট হবে।
বসন্তের জন্য নিউট্রিশনাল সায়েন্সে কি আলাদা কোন ডায়েটারি সেকশন আছে??
উত্তর হল, নেই।
আমি ইতিহাস, ভুগোল, পদার্থবিদ্যা ও রসায়ন বেশ ভাল জানি আল্লাহর রহমতে।
আমি মানুষের জানা ইতিহাস, ভুগোল ও বিজ্ঞানের জ্ঞানকে পুষ্টিবিদ্যার সাথে মিলিয়ে ব্যবহার করি মাঝে মধ্যে।
এই পরামর্শগুলো সেখান থেকেই দেয়া।
আপনার বসন্ত সুন্দর হোক!!
সোনালী রোদ, নীল আকাশ, নয়রঙা ফুল আর ফাগুন হাওয়ার শুভেচ্ছা সবাইকে!!



No comments:
Post a Comment