সবার আগে সুস্থতা : আসুন, সুস্থ থাকি
প্রকৃতি থেকে প্রকৃত খাবারটা জোগাড় করতে না পারলে অন্য কোনো উপায়ে আমাদের রোগ থেকে মুক্তিলাভ তথা সুস্থভাবে বাঁচার আশা নাই!
ঘরের টিনের চাল ফুটো হয়ে বৃষ্টির পানি পড়তে থাকলে ক্রমাগত মেঝের পানি মুছে লাভ হবে না, সবার আগে ছিদ্র বন্ধ করার ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা আমাদেরকে ক্রমাগত পানি মুছে যাওয়ার বৃথা কৌশলে পরিচালিত করে।
আপনার যখন ইচ্ছে মুখ দিয়ে খাবার ঢোকাতেই পারেন, কিন্তু কোষ প্রয়োজন ছাড়া হুটহাট খাবার খায় না! কোষের চিকিৎসার দায়িত্ব/অধিকারও দুনিয়ার কোনো চিকিৎসককে দেওয়া হয়নি!
খালি চোখে পানি দেখতে স্বচ্ছ হলেই সেটাকে বিশুদ্ধ ভেবে নেওয়ার কোনো কারণ নাই। পানি পানের ভুলে মানবদেহে অনেক জটিল রোগ-বালাই হতে পারে। আবার সঠিক নিয়মে পানি পান করলে (জলচিকিৎসা) ৭২% রোগ থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব।
যখনই পানি পানের প্রয়োজন হবে, হালকা কুসুম গরম পানি পানের অভ্যাস করতে পারলে পেটের কোনো সমস্যা থাকবে না।
আমাদের সব সময় রক্তের তাপমাত্রার সঙ্গে মিলিয়ে হালকা কুসুম গরম পানি (লালা মেশাতে মেশাতে) পান করা উচিত। পানির পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে প্রস্রাবের রং বিশ্লেষণ করে।
আমাদের শরীর সেরা ঔষধালয়- মানবদেহের প্রয়োজন অনুযায়ী ঔষধ তৈরি করে নিতে পারে, কিন্তু মহাপ্রকৃতি থেকে সঠিক কাঁচামাল বেছে নিয়ে আমাদেরকেই মুখ দিয়ে ঢোকাতে হবে।
আমরা বাড়ি তৈরির সময় কঠোর মান নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রিধারী প্রকৌশলীকে সার্বক্ষণিক দাঁড় করিয়ে রাখি, কিন্তু তারচেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার খাদ্যগ্রহণের সময় নূন্যতম বাছ-বিচার করি না!
জিহবাকে ক্ষণিকের পরিতৃপ্তি দিতে গিয়ে আমরা দেহের 'বারোটা' বাজিয়ে ফেলি! যত দামি খাবারই খান না কেন, গলাধঃকরণের পরে তার ভিন্ন কোনো স্বাদ থাকে না!
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ হলো নিজেকে সুস্থ রাখার ক্রমাগত প্রচেষ্টা চালানো আর শরীরকে আজীবন সুস্থ রাখতে পারাটাই শ্রেষ্ঠ ব্যবসা! খাদ্যগ্রহণ ইবাদত-তূল্য, কিন্তু আমরা এর গুরুত্ব বুঝি না, বোঝার চেষ্টাও করি না।
আমাদের প্রতিদিনকার খাদ্য-তালিকার ৭০% ক্ষারীয় এবং বাকি ৩০% আম্লীয় হতে হবে।
হজম প্রক্রিয়ার ৬০% মুখে আর বাকি ৪০% পেটে সম্পন্ন হয়। সে কারণে খাবার যথাসম্ভব চিবিয়ে, লালা মিশিয়ে, ধীরে-সুস্থে খেতে হবে।
১০ গ্রাম বিষ সরাসরি পেটে চালান করে দিলে বিষক্রিয়ায় তৎক্ষণাৎ মৃত্যু হতে পারে। কিন্তু সেই বিষ কিছুক্ষণ মুখে রেখে লালা মেশালে ক্ষতি অপেক্ষাকৃত কম হবে। লালা এতোটাই শক্তিশালী হজমিকারক!
সমগ্র পৃথিবীর ৪০% মানুষ রাসূলুল্লাহ (সা.) নির্দেশিত খাদ্যগ্রহণের ১/৩ সূত্র (খাওয়ার সময় পাকস্থলীর এক তৃতীয়াংশ পানি দিয়ে, এক-তৃতীয়াংশ খাবার দিয়ে এবং বাকি অংশ বাতাসের জন্য খালি রাখা) অনুসরণ করেন। এদের মাত্র ২% মুসলমান ধর্মাবলম্বী; বাকি ৯৮% অন্যান্য ধর্মানুসারী।
মানুষসহ সকল প্রাণীকূলের রোগজীবাণুর মধ্যেই বসবাস, তবু মানুষ সুস্থভাবে বেঁচে থাকে শারীরিক রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতার (immunity) কারণে। ভুলভাল জীবনযাপন আর উল্টাপাল্টা খাদ্যাভ্যাসের কুপ্রভাবে immunity কমে গেলে সুস্থতা বজায় রাখা কঠিন।
আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা মূলত অসুস্থ মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে ব্যবসা ছাড়া কিছুই নয়! সমগ্র বিশ্বজুড়ে অস্ত্র আর ড্রাগস ব্যবসা মাফিয়াদের কব্জায়; দিনকে দিন পরিস্থিতি আরো ভয়াল রূপ ধারণ করছে।
কোনো মানুষই অসুস্থ থাকতে চায় না, আবার ড্রাগস সেবন ছাড়তেও পারেন না। তাহলে সুস্থ থাকবেন/হবেন কিভাবে? নিয়মিত ড্রাগস সেবন শরীরের কোষগুলোকে দুর্বল করে দেয়।
অসুস্থ রোগীরা চিকিৎসাবিজ্ঞানের সেবা নিতে গিয়ে চিকিৎসা-ব্যবসার শিকার হচ্ছেন। দ্রুত মরতে যদি চাও, চিকিৎসা ব্যবসায়ীদের কাছে ধরনা দাও!
শরীরের ব্যথা-বেদনা, জ্বর-সর্দি-কাশি, বমি ইত্যাদি মূলত কোষের কান্না বা রোগের সিগনালও বলা চলে। টের পাওয়া মাত্র সতর্ক হলে রোগ-বালাই মোটেও সুবিধা করতে (জেঁকে বসতে) পারবে না।
আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার নামে মুঠোভরে ড্রাগস সেবন করলে মস্তিষ্কের সঙ্গে সমগ্র দেহের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে ব্যথার অনুভূতি টের পাওয়া যায় না। এটাকেই (লক্ষণ ধামাচাপা দেওয়া) আমরা রোগের নিরাময় মনে করি (যদিও সেটা ক্ষণিকের উপশম মাত্র)
মৃত্যু অবধারিত; সেটা নিয়ে ভাবনা (দুশ্চিন্তা করা) অহেতুক। আমাদের ভাবতে হবে সুস্বাস্থ্যচর্চার প্রাকৃতিক উপায়গুলো নিয়ে।
১০০০ বছর বেঁচে থাকার সামর্থ্য নিয়ে এই দুনিয়াতে মানুষের (আদম) যাত্রা শুরু হয়েছিল, কিন্তু সেই মানুষ এখন শত বছর পেরুতে পারছে না। এমনকি বয়স ৪০ না পেরোতেই শরীরের নানা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ damage হয়ে যাচ্ছে।
মায়ের যোনিপথে অগণিত জীবাণু গিজগিজ করে। সেই সকল জীবাণুর সঙ্গে লড়াই করে যোনিপথে নবজাতক পৃথিবীর আলো-বাতাস দেখবে- এটাই সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত প্রাকৃতিক বিধান। এর ফলে শিশু জন্মলগ্নেই রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে শিখে যায়। কিন্তু এখন যে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নবজাতকদের আগমন ঘটছে- এটা নানাবিধ জটিলতা সৃষ্টি করছে। এভাবে জন্ম নেওয়া শিশুগুলো আজীবন রোগে ভুগছে।
মানুষের প্রয়োজনীয় খাবারগুলো তার নাগালের মধ্যেই দেওয়া থাকে (স্থায়ীভাবে বসবাসের জায়গার চারপাশে ২০ মাইল এর মধ্যেই উৎপাদিত হয়), কিন্তু মানবদেহের জন্য বিশেষভাবে উপকারী কিছু খাবার পাওয়া যায় সাগরের তলদেশে, সুউচ্চ পাহাড়ের চূড়ায় অথবা দুর্গম বনাঞ্চলে। এর উদ্দেশ্য মানুষ যেন কষ্টসাধন করে ভালো খাবারগুলো জোগাড় করে (গুরুত্ব বুঝতে পেরে) খেয়ে নিজেদেরকে রোগমুক্ত করতে/রাখতে পারে।
পৃথিবীতে মানুষ ছাড়া এমন কোনো প্রাণী নাই- যারা মাটির সংস্পর্শে থাকে না। এজন্যই তাদের রোগ-বালাই হয় না!
মানুষকে যতদিনের হায়াত ও রিজিক দেওয়া হয়, সেই অনুপাতে তার দেহে ইন্সুলিন তৈরির ব্যবস্থাও বিদ্যমান থাকে। কিন্তু আমরা যখন প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার খেতে থাকি, তখন ইন্সুলিনের অপব্যবহার হয়; পরিণামে দেহ আগেভাগেই ইন্সুলিন তৈরির সক্ষমতা হারায়। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে নিষ্কৃতি চাইলে মহাপ্রকৃতি থেকে সঠিক খাবার বেছে নেওয়ার পাশাপাশি খাদ্যগ্রহণের পরিমাণ কমাতে হবে।
শরীরে খাদ্য যত কম ঢুকাবেন, তত বেশি সুস্থ ও নিরোগ থাকতে পারবেন।
================
এক গ্লাস/মগ হালকা কুসুম গরম পানির মধ্যে চিয়া বীজ, তুলসি বীজ, ইসুবগুলের ভুষি ও এলকুলি (হামদর্দ-এর) অল্প পরিমাণে মিশিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। তারপর ধীরে-সুস্থে কমপক্ষে তিন শ্বাসে পান করুন। সকালে নাস্তা খাওয়ার আগে এটা হতে পারে চমৎকার একটি উপকারী পানীয়।
হাতের নাগালে সহজেই পাওয়া যায়- এমন প্রাকৃতিক খাবার নিয়মিত খেয়ে আজীবনের সুস্থতা সুনিশ্চিত করুন।
============
রোগ যত ভয়ংকরই হোক না কেন, সঠিক প্রাকৃতিক খাদ্যাভ্যাসে তা নির্মূল করা সম্ভব- খাদ্য যখন পথ্য হয় রোগ তখন দূরে রয়। আল্লাহতায়ালা পৃথিবীতে এমন কোনো রোগ দেননি, যার সমাধান মহাপ্রকৃতিতে রাখেননি? নিজেদের ভুলে অসুস্থ হলে মানুষের উচিত সঠিক খাবারটা খুঁজে নেওয়া। না জেনে, না বুঝে অন্যদের দেখাদেখি সিন্থেটিক ড্রাগসের পিছনে দৌড়িয়ে পকেট শূন্য হওয়া ছাড়া বিশেষ কোনো ফায়দা হবে না!
দেশবরেণ্য ঔষধি খাদ্য বিশেষজ্ঞ চুয়াডাঙ্গা জেলার কৃতিসন্তান (আলমডাঙ্গা উপজেলার বন্ডবিল নিবাসী) Shahid Ahmed দাদাভাইয়ের তত্ত্বাবধানে প্রাকৃতিক নিয়মে সুস্থতা ফিরে পাওয়ার আরো একটি সাফল্যের গল্প শুনুন...
দৈনন্দিন জীবনযাপনের ভুল শুধরানোর পাশাপাশি শুধুমাত্র আঁশযুক্ত ঢেকিছাঁটা লালচালের পান্তাভাত, দেশি গরুর দুধ দিয়ে ঘরে পাতা টকদই আর আধা সিদ্ধ শাকপাতা নিয়মিত খেয়ে হৃৎপিন্ডের ব্লকেজ দূর করেছেন ময়মনসিংহের চিরঞ্জন কুমার সাহা (৫৮); চাকরি করেন ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে। উনার মুঠোফোন নম্বর ০১৬৮২২৫৫২৩৮।
চিরঞ্জন কুমার সাহা এখন আগের চাইতে অনেক বেশি প্রাণবন্ত, আত্মবিশ্বাসী এবং স্বাস্হ্য সচেতন। উনি পারলে আপনিও প্রাকৃতিক নিয়মে সুস্থতা ফিরে পাবেন ইনশাআল্লাহ...
=========
নিজ দায়িত্বে সুস্থতা সুনিশ্চিত করুন!
মানুষ যখন কোনো রোগে আক্রান্ত হবে, সবার আগে তাঁকে মুখ দিয়ে খাদ্যগ্রহণ বন্ধ করে দিতে হবে। কারণ ওই মুহূর্তে পরিপাকতন্ত্রের খাদ্যকে হজম করার মতো শক্তি অবশিষ্ট থাকে না। ওই সময় খাবার ঢোকালে সেটা হজম করতে গিয়ে শরীরের শক্তি অযথা ব্যয় হবে, ফলে ইমিউন সিস্টেম রোগ নিরাময়ে কাজ করতে পারবে না।
মানবদেহে সেই পরিমাণ শক্তি সব সময় সঞ্চিত থাকে- যা দিয়ে খাদ্যগ্রহণ ছাড়াও অনায়াসে ২০ থেকে ২৫ দিন পর্যন্ত অতিবাহিত করা সম্ভব। তবে সেই সময় তাকে পানি পান অব্যাহত রাখতে হবে। যদি কেউ পানি পান করাও ছেড়ে দেয়, সেক্ষেত্রে ৭ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত অনায়াসে অতিবাহিত করতে পারবেন। এটাই হলো মহান সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত শরীরের নিজস্ব প্রাকৃতিক ক্ষমতা।
রোগাক্রান্ত অবস্থায় শরীরের খাদ্যের প্রয়োজন হয় না। শরীরের প্রয়োজন রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করা। সেই শক্তি সে আগে থেকেই সঞ্চয় করে রেখেছে। সুতরাং দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নাই!
রোগাক্রান্ত অবস্থায় সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত ভারী খাবার না খেয়ে এক দুই ঘণ্টা বিরতি দিয়ে হালকা কুসুম গরম পানির সঙ্গে শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট লেবুর রস, ভিনেগার আর যৎসামান্য মধু মিশিয়ে পান করতে পারেন। তাতেই শরীর প্রয়োজনীয় শক্তি পেয়ে যাবে ইনশাল্লাহ। এর বাইরে অন্য কোনোকিছুই খাওয়া যাবে না।
উপরোক্ত নির্দেশনা পুরোপুরি মেনে চললে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টার বেশি কেউ গুরুতর অসুস্থ থাকতেই পারবেন না। সেক্ষেত্রে চিকিৎসা ব্যবসায়ীদের দ্বারস্থ হওয়ারও প্রয়োজন হবে না!
===============

No comments:
Post a Comment