ব্যায়াম করা নিয়ে কিছু প্রচলিত ধারণা আছে, যা আসলে আপনার ক্ষতি করে।
এই রকম কয়েকটার উদাহরণ আজকে দেইঃ
১। ব্যায়াম করার সময় যত বেশি ঘাম হয়, তত ভালো।
ঘাম যত বেশি হবে আমাদের শরীর থেকে তত বেশি ইলেক্ট্রোলাইট (সোডিয়াম, পটাসিয়াম) বের হয়ে যাবে। যা আসলে আমাদের জন্য ভালো নয়।
২। প্রতি সেটের মাঝে যত পারা যায় কম রেস্ট নিতে হবে।
এইটাও ভুল।
রেস্ট কম নিলে প্রতি সেটের মাঝে মাসেল রিকভার হবার সুযোগ পায় না। ফলে পারফর্ম্যান্স খারাপ হয়। প্রতি সেটের মাঝে অন্তত ১.৫ মিনিট রেস্ট রাখা উচিত।
৩। পেটের ব্যায়াম করলে আপনি পেট কমাতে পারবেন।
আরেকটা কমন ভুল।
পেটের ব্যায়াম করলে পেটের পেশি শক্তিশালী হয়, কিন্তু এতে পেটের চর্বি কমে না। পেট কমাতে চাইলে ডায়েটের দিকে নজর দিতে হবে এবং দরকারবোধে কার্ডিও করতে হবে।
৪। মাসেল বিল্ড করতে চাইলে সপ্তাহে মিনিমাম ৫ দিন জিম করতে হবে।
এইটা পুরোপুরি ভুল নয় অবশ্য। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষের জন্য এটা খাটে না।
১৫%-২০% মানুষের জন্য এটা সত্যি। বাকি ৮০%-৮৫% এর জন্য সপ্তাহে ৩-৪ দিন জিম করা ভালো রেজাল্ট আনে।
৫। মাসেলে যত বেশি পাম্প আসবে, তত ভালো।
এইটা মনে হয় সবচেয়ে কমন মিসটেইক।
পাম্প আসা আর না আসার ওপর আপনার মাসেল বিল্ডিং ডিপেন্ড করে না। একটা মাসেলের এক্সারসাইজ করলে সেই মাসেলে গিয়ে কিছু রক্ত জমা হয়, একেই আমরা পাম্প বলি।
এই রক্ত আবার কিছুক্ষণ পরে আগের জায়গায় ফেরত যাবে। পাম্প বেশি আসলেই বেশি মাসেল বিল্ড হবে ব্যাপারটা এমন নয়।
এখন বলেন দেখি, এর মধ্যে কয়টা ভুল ধারণা আপনার ছিল?
===========
৩০ বছরের পরে বেশিরভাগ মানুষেরই সেইম কমপ্লেইন থাকেঃ
১। সহজে ফ্যাট লস হচ্ছে না।
২। লো এনার্জি আর মোটিভেশন।
৫ টা হ্যাবিট শেয়ার করি, যা ৩০ এর পরে আপনার ফিটনেস জার্নিকে কিছুটা হলেও সহজ করে তুলবেঃ
১। সকালে কিছু খালি পেটে কিছু মুভমেন্ট করেন।
খালি পেটে এড্রেনালিন বাড়ানো ফ্যাট লসে হেল্প করে। সো কিছু খাবার আগে ওয়েটলিফটিং, ওয়াকিং, রানিং, সাইক্লিং এই সব ভালো অপশন।
(মাসেল বিল্ড করার জন্য খালি পেটে ওয়েটলিফটিং ইজ নট এ গুড অপশন।)
২। এনিম্যাল প্রোটিন প্রায়োরাটাইজ করেন। সব মিলে এনিম্যাল পোটিন রাখার ট্রাই করবেন।
৩। সকালে রোদে হাঁটাহাঁটি করেন। শুধু ভিটামিন ডি এর জন্য নয়। ইনফ্ল্যাম্যাশন কমাতে, ইনসুলিন সেন্সিভিটি বাড়াতে, সার্কাডিয়ান রিদম ঠিক করতেও এর ভালো ভূমিকা আছে।
৪। ইনফ্ল্যাম্যাটরি ফুড এভয়েড করেন। বেশিরভাগ মানুষের জন্যই ডেইরি প্রোডাক্ট, সুগার, ভেজিটেবল অয়েল ইনফ্ল্যাম্যাশন ক্রিয়েট করে। এইসব লিমিট করে আনা ভালো একটা বুদ্ধি।
৫। বড় মিলের পরে ১০ মিনিট হাঁটবেন।
এই ৫ টা পয়েন্ট ফলো করেন, ইনশাআল্লাহ লাইফের কোয়ালিটি বহুগুণে বাড়বে।
=============

No comments:
Post a Comment